Jhulan Purnima/Yatra 2022 ঝুলনযাত্রা কী? শ্রীশ্রী রাধা-মাধবের ঝুলনযাত্রা কবে?
Jhulan yatra | Jhulan Purnima ঝুলনযাত্রা কী? শ্রীশ্রী রাধা-মাধবের ঝুলন যাত্রা কবে? বিস্তারিত...
Jhulan yatra ঝুলন যাত্রা
প্রথমেই লক্ষ্য করি,ঝুলন শব্দটার সাথে 'দোলনা' শব্দটি খুবই সম্পর্কিত। অর্থাৎ 'ঝুলনযাত্রা' হলো, শ্রীশ্রী রাধা-মাধবকে সুন্দর করে সাজিয়ে দোলনাতে বসিয়ে মহাসমারোহে পূজা করা এবং রাধামাধবকে দোলনায় দোলানোর উৎসব। রথযাত্রা পরবর্তী এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের বড় একটি উৎসব। শাস্ত্রানুযায়ী "ঝুলনযাত্রা"র উৎপত্তি দ্বাপর যুগে। বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করেই এই ঝুলন যাত্রার সূচনা।
শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির রূপক আর শ্রীমতি রাধারাণী হলেন তাঁর পরম ভক্তস্বরূপিণী। পুরাণে শ্রীকৃষ্ণের নিত্য অষ্টপ্রহরের আটটি লীলার কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি দিব্যলীলা হলো এই ঝুলনযাত্রা। শ্রীকৃষ্ণ রাধার অষ্টসখীর(ইন্দুরেখা, চিত্রা, চম্পকলতা, ললিতা, বিশাখা, তুঙ্গবিদ্যা, সুদেবী এবং রঙ্গদেবী) সঙ্গে একত্রে বৃন্দাবন কুঞ্জে নৃত্য-গীত সহযোগে রাধার সঙ্গে দোলনায় ঝুলেছিলেন। এই দিনে কদম গাছের ডালে দোলনা বেঁধে সখীরা রাধাকৃষ্ণকে একত্রে ঝুলন করিয়েছিলেন। শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের বারোটি(১২) পৃথক পৃথক যাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। এদেরকে একত্রে 'দ্বাদশযাত্রা'ও বলা হয়। রাধাকৃষ্ণকে দোলনায় স্থাপন করে তাদের যুগলমূর্তিকে ঝুলানো,পাঁচদিন ধরে তাঁদের নানারকম সাজে সাজানো,নামগান,কীর্তন, প্রেমভক্তি ইত্যাদি বিশুদ্ধ প্রেমপর্ব সমস্তকিছু ঝুলনযাত্রার মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়।
ঝুলনযাত্রা কবে?
ঝুলনযাত্রা রথযাত্রা পরবর্তী একটি বড় উৎসব। এই উৎসব পালন করা হয় শ্রাবণ মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশীর দিন থেকে পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত। শ্রাবণ মাসের এই পূর্ণিমা তিথিকে রাখি পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ঝুলনযাত্রা শ্রাবণ মাসের অমাবস্যার পরের একাদশী(পবিত্রারোপণী একাদশী) থেকে শুরু হয়ে শ্রাবণী পূর্ণিমা অর্থাৎ রাখির দিন পর্যন্ত এই উৎসব পালন করা হয়।
ঝুলনযাত্রা ২০২২ কবে?
ঝুলনযাত্রা উৎসব
দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের প্রেম লীলাকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় এই উৎসব। বর্তমানে ভারতবর্ষ ছাড়াও সারা পৃথিবীতে বহুবিধ রীতি-নীতি, আচার-সংস্কারের ধারা ধরে পালিত হয় ঝুলনযাত্রা। সেই বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে রাধাকৃষ্ণকে সখীরা ঝুলনে দুলিয়েছিলেন। রাধাকৃষ্ণ প্রেমাস্পদ হয়ে এই ঝুলনে মেতেছিলেন। আজও সেই স্মৃতি প্রতিটি সনাতনীদের হৃদয়ে সমানে বয়ে চলেছে। রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে বিশুদ্ধ প্রেমের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই জীবজগতে প্রেমের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। তারই পূর্ণতা দিয়েছেন কলিযুগ পাবন অবতার শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। যিনি অকাতরে মানব থেকে শুরু করে প্রত্যেক জীবকে দিয়েছেন প্রকৃত প্রেমের সন্ধান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ, মায়াপুর, শান্তিপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মথুরা,বৃন্দাবন ইত্যাদি স্থানে মহাসমারোহে শ্রীশ্রী রাধামাধবের ঝুলনযাত্রা পালিত হয়ে থাকে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থান নবদ্বীপ এবং বিশেষত মায়াপুরে যেইরকম ভাবে এই ঝুলন উৎসব পালিত হয় তা আর অন্য কোথাও বিশেষ এমন দেখা যায় না। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকাল থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত নানা কার্যকলাপ নানা ধরনের পুতুল দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে যা ঝুলনযাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া বর্তমানে মহাসমারোহে পৃথিবীর বিভিন্ন মঠ মন্দিরে বিশেষ করে প্রত্যেকটি ইসকন মন্দিরে এই ঝুলনযাত্রা উৎসব পালন করা হয়।